Wednesday, October 13, 2010

হযরত মুহাম্মদ (সা) কি দিয়ে তৈরি? মাটি নাকি নূর?


প্রশ্ন: হযরত মুহাম্মদ (সা) কি দিয়ে তৈরি? মাটি নাকি নূর?

প্রশ্নকর্তা: মোহাঃ আব্দুল মালেক এবং মোহাঃ হানিফ, গ্রাম: নরসিংহপুর ইংলিশ, পো: মির্জাপুর থানা: শিবগঞ্জ জেলা: চাপাই নবাবগঞ্জ, দেশ: বাংলাদেশ।

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম
সমস্ত প্রসাংশা সেই মহান আল্লাহ তায়ালার জন্য, যিনি পরম করুনাময় ও দয়ালু। আর তারই প্রেরিত রাসুর হযরত মুহাম্মদ (সা) এর উপর অসখ্য দুরুদ বর্ষিত হোক।

আমার প্রিয় প্রশ্নকর্তা ভাইদের অসখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি, এমন একটি সুন্দর ও জ্ঞানগর্ভ পশ্ন করার জন্য। প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে একটি কথা পরিস্কার করে বলতে চাই যে, কোন মুসুলমানের উচিত হবেনা কোন ব্যক্তি বা বস্তু সম্পর্কে অতিরিক্ত প্রশাংসা করা। কারন রাসুল এধরনের অতিরিক্ত প্রশাংসা করা থেকে বিরত থাকতে আদেশ করেছেনে।এবং মুসুলমানদের প্রশাংসায় নমনীয় হতে বলেছেন। এব্যাপারে একটি হাদিসের উদ্ধৃতি দেওয়া যায়; রাসুল (সা) বলেছেন, ”যে ব্যক্তি অতিরিক্ত প্রশাংসা করে তার মুখে মৃত্রিকা ছুড়ে মারা উচিত হবে।” (মুসলিম শরিফ, চর্তুথ খন্ড, হাদিশ নং-২২৯৭)

এবার চলুন দেখি রাসুল (সা) কি দ্বারা তৈরি, মাটি নাকি নুর? প্রথমেই জেনে নেব নূর শব্দটি কি অর্থ দেয়। নুর শব্দটির অর্থ হলো আলো, ধার করা আলো বা উজ্জলতা। আবার শব্দটির ব্যবহারিক দিক দিয়ে কয়েকটি অর্থ দেয়। যেমন ফেরেস্তরা আল্লাহর নূর দ্বারা তৈরি।অপর পক্ষে, শিক্ষিত ব্যক্তিকে আমরা সমাজের আলো বা নুর বলে থাকি। আবার পথ প্রদশর্ক। যেমন রাসুলের ক্ষেত্রে শব্দটি পথ পদশর্ক।

এবার প্রধান প্রশ্নে আসি, আল্লাহ তায়ালা তার রাসুল সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে বলেন: “বলুন, আমি তো কেবলমাত্র তোমাদের মত মানুষ, (প্রাথক্য হল এই যে) আমার কাছে আল্লাহর পক্ষ হতে ওহী আসে (আর তোমাদের কাছে আসেনা)।”সুরা: ক্বাহাফ, ১১0 নং আয়াত।)
দেখুন আল্লাহ তায়ালা তার রাসুল সম্পর্কে স্পস্ট প্রকাশ করলেন যে তাঁকে মানুষের মতই একই উপাদান দিয়ে তৈরি করেছেন। এব্যাপারে সৌদির বিখ্যাত বক্তা শেখ এম, এস মুনাজিদ এর উক্তি টি উল্লেখ করা যেতে পারে তিনি বলেন,” মুহাম্মদ (সা)নূর দিয়ে তৈরি ধারনাটি একেবারেই ভুল।”
চলুন দেখি মানুষকে আল্লাহ তায়ালা কিদিয়ে তৈরি করেছেন। মনুষ তেরির ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা বলেন, হে মানব তোমরা যদি কেয়ামত সম্পকে সন্দেহ করে থাক তাহলে জেনে রাখ, আমি তোমাদের সৃস্টি করেছি মাটি থেকে, তারপর রক্তপিন্ড থেকে, তারপর সুসামানঞ্জস্য ও অসামানঞ্জস্য মাংসের তাল থেকে।” (সুরা হাজ্জ: আয়াত নং-৫)
আল্লাহ তায়ালা আবার বলেন, আমি মানুষকে একবিন্দু জমাট রক্ত থেকে সৃষ্টি করেছি।”(সুরা: আলাক, আয়াত নং-২)
আবার আল্লাহ তায়ালা বলেন, আমি প্রত্যেক প্রাণিকে(জীবজন্তুকে) পানি থেকে সৃষ্টি করেছি।( সুরা নুর, আয়াত নং-৪৫)
আল্লাহ তায়ালা অন্যাথায় বলেন, ”আমি প্রতিটি জীবকে পানি থেকে তৈরি করেছি।”( সুরা আম্বিয়া, আয়াত নং-৩০)
তাহলে আমরা পরিস্কার যে আল্লাহ তায়ালা আমাদের মাটি, পানি, রক্ত ও মাংশের সম্নয়ে সৃষ্টি করেছেন, আর যেহেতু রাসুল আমাদের মত মানুষ তাই আল্লাহ তায়ালা তাকে সৃষ্টি করেছেন সেসব উপাদান দিয়ে যাদ্বারা মানুষকে সষ্টি করা হয়েছে। অর্খাৎ রাসুল (সা) কে সৃষ্টি করা হয়েছে মাটি, পানি, রক্ত ও মাংশ দিয়ে। আর একটা কথা আপনারা ভাল ভালই জানেন যে উহুদের যুদ্ধে রাসুল (সা) দাত মোবারক শহীদ হয় এবং তা থেকে রক্ত প্রবাহিত হয়।

রাসুল (সা)যে মানবিক গুনাবলী নিয়ে তৈরি তা আর একটি হাদিশ উল্লেখ করলেই বুঝা যায়। রাসুল (সা) বলেন, ’আমি মানব জাতির নেতা, আমিই প্রথম মানুষ যার জন্য পৃথিবী বিদীর্ণ হবে, এবং আমিই পথম ব্যক্তি যার সুপারিশ প্রথমেই গৃহিত হবে।’ (আবু দাউদ, ৫ম খন্ড, হাদিশ নং-৪৬৭৩) এখানে আরও স্পষ্ট যে আল্লাহর রাসুল আমাদের মত একজন মানুষ।
তবে আল্লাহ তায়ালা তার রাসুলকে নূর বা আলো হিসেবে গুনান্নিত করেছেন। যেমন আল্লাহ তায়ালা বলেন, ”হে নবী আমি তোমাকে পাঠিয়েছি একজন সাক্ষিরুপে, একজন সুসংবাদদাতা রুপে এবং একজন সতর্ককারী রুপে। আর আল্লাহর অনুমতিক্রমে তোমাকে পাঠানো হয়েছে আহবায়ক রুপে আর এক উজ্জ্বল্ল প্রদীপরুপে।” (সুরা আহযাব, আয়াত নং-৪৫ ও৪৬)
আবার আল্লাহ তায়ালা বলেন, ”তোমাদের কাছে এসেছে একটি উজ্জল প্রদীপ এবং একট সহয বই।” (সুরা মায়দাহ, আয়াত নং-১৫)

উপরোক্ত দুটো আয়াতেই আল্লাহ তায়ালা, রাসুল কে আলো বা নুর হিসেবে ভুসিতকে করেছেন কিন্তু তিনি বলেননি যে মুহাম্মদ (সা) নুর দ্বারা তৈরি। আপনারা জানেন রাসুল পুর্ববতী সময়কে জাহেলিয়াত বা অন্ধকারের যুগ বলা হত আর সে অন্ধকারে রাসুল ছিলেন আলো। (যেমন এখনো শিক্ষিত মানুষদের সমাজের আলো বলা হয়ে থাকে) কিন্তু রাসুল নুর দ্বারা তৈরি বললে তা হবে অতিরিক্ত প্রশাংসা।

আল্লাহ আমাদের বুঝার তৈফিক দান করুক।আমিন।

উত্তরদাতা
নাসিম রানা মাসুদ
(বিভিন্ন ধর্ম গ্রন্থের পাঠক ও গবেষক)
ই-মেইল: rnasim36@yahoo.com
ওয়েবসাইট: www.nasimrana.blogspot.com